Showing posts with label রম্য. Show all posts
Showing posts with label রম্য. Show all posts

02 May 2019

ছাগলদের পদায়ন এবং একটি রম্য গল্প


বঙ্গদেশে একদা এক রাজা ছিলেন। তার ছিলো মৎস্য শিকারের খুব শখ। কিন্তু বঙ্গদেশের তো আবহাওয়ার কোন ঠিক নেই - এই রোদ তো এই বৃষ্টি। তাই রাজা মৎস্য শিকারে যাওয়ার আগে আবহাওয়া বিভাগের প্রধানের পরামর্শ নেন।

একদিন রাজা আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে ডেকে বললো, “আমি মৎস্য শিকারে যেতে চাই। আজকের আবহাওয়া কেমন থাকবে?”

জবাবে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বলল, “আজকে চমৎকার আবহাওয়া থাকবে জাহাপনা। আপনি যেতে পারেন।”

রাজা বের হলেন । রাজা যখন সাগর পাড়ে গেলেন, তখন সাগর পাড়ে এক জেলে ছাগল চরাইতেছিলো। সে বললো, “মহারাজ আজকে কেন আপনি সাগরে যাচ্ছেন? একটু পরেই তো বৃষ্টি শুরু হবে।”

রাজা রেগে গিয়ে বললেন, “বেটা জেলের বাচ্চা তুই কি জানিস? আমি আবহাওয়ার খবর জেনেই এসেছি।”

রাজা সাগরে গেলেন। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। রাজা প্রাসাদে ফিরে এসে আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে বরখাস্ত করে ঐ জেলেকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন।

জেলে পড়লো বিপদে। সে তো আবহাওয়ার কিছুই জানেনা। রাজ দরবারে গিয়ে জেলে বলল,” মহারাজ আমাকে যেতে দিন। আমি আসলে আবহাওয়ার কিছু জানিনা।”

রাজা বললো, “ তাহলে সেদিন আমার আবহাওয়া বিভাগের থেকেও সঠিক খবর তুই কি করে দিলি?”

জেলে উত্তর দিল, “মহারাজ সেদিন আমার কোন কৃতিত্ব ছিলনা। সব কৃতিত্ব আমার ছাগলের। বৃষ্টি আসার আধঘণ্টা আগে থেকে ছাগলটা ঘনঘন মুতে। তা দেখেই আমি বুঝতে পারি একটু পর বৃষ্টি হবে।”

তারপর রাজা জেলেকে ছেড়ে দিয়ে তার ছাগলটাকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন। সেই থেকেই বড় বড় পদগুলোতে ছাগল নিয়োগ দেওয়ার রীতি চালু হয়েছে।

14 August 2016

ফুলের টবে গাঁজা চাষ - ছাত্রলীগ নেতার নতুন কীর্তি

পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্রলীগ নেতা ফুলের টবে গাঁজা আই মিন গাঁঞ্জার চাষ করছেন! নিউজটা বেশ ইন্টারেষ্টিং। ফুলের টবে গাঁজার চাষ, এতো বিশাল মাপের ইনভেনশন। এর আগে সোনার ছেলে মানিক ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে সবাইকে তাক লাগিয়েছিলো। এবার সেই সেঞ্চুরিকেও হার মানালো এই দুই সোনার ছেলের উদ্ভাবিত পদ্ধতি! এটা শুধু নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবনই নয়, গাঁঞ্জাঙ্গণে প্রচলিত একটি গানের রহস্যেরও উন্মোচন! নিশ্চই সোজা কোনো বিষয় নয়।

কেউ কেউ নাক সিঁটকাচ্ছেন জানি। কিন্তু আমি বুঝিনা কেনো আপনারা নাক সিঁটকাচ্ছেন। আরে বেটা গাঁজাও তো একটি গাছ নাকি? তুমি বেটা কয়টা গাছ লাগিয়েছো শুনি? ওরা শুধু গাছাই লাগায়নি। এই গাছের কিভাবে পরিচর্যা করতে হয়, কিভাবে এই গাছকে ব্যবহার করতে হয় সেটাও দেখিয়ে দিযেছে!! কারন সংবাদ মারফত জানা যায়, তারা প্রায়ই রুমে গাঁজার আসর বসাতেন।

গাঁজার চাষের নতুন পন্থা উদ্ভাবনকারী একজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক। উপ আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হলেও বুঝতাম তিনি সহকর্মীদের আপ্যায়নের জন্যই গাঁজার চাষ করছেন। কিন্তু ত্রাণ সম্পাদক হয়ে গাঁজার চাষ উদ্ভাবন দেখে অবাকই হলাম। হয়তো দপ্তর বন্টনটা ঠিক হয়নি, নয়তো অন্য কিছু! তবে এই ছাত্রলীগ নেতা ফুলের টবের গাঁজার গাছকে ঔষধি গাছ বলে দাবি করেছেন। সোনার ছেলেদের চিকিৎসাও কি গাঁজার মাধ্যমেই হয় তাইলে? নইলে গাঁজাকে ঔষধি গাছ বলবে কেনো? মাননীয় সরকারের কাছে গাঁজাকে ঔষধি গাছ হিসেবে স্বীকৃতির অনুরোধ জানাই। সোনার ছেলেদের আবিষ্কার বলে কথা!

এখন নিশ্চই বিসিএসে নিয়োগে শুধূ শরীরের কাটা দাগ দেখলেই হবে না, মুখে গাঁজার গন্ধ আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। গতকালকে আরেকটা নিউজ পড়লাম “মেয়াদোত্তীর্ণ সিগারেট বিক্রি, ছাত্রলীগ নেতার জরিমানা”! ছাত্রলীগ যদি এভাবে গাঁজা, সিগারেটের ব্যবসায় নেমে পড়ে তাহলেতো মুশকিল! তবে একটা বড় সুবিধে পাওয়া যাবে, সেটা হলো সোনার ছেলেরা গাঁজা আর সিগারেটে মত্ত থাকলে কোপাকোপি গোলাগুলিটা কম হবে। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।

08 June 2016

পরিবর্তন জরুরী, কিন্তু কতটুকু?

রুমী বলেছেন- ''গতকাল আমি চালাক ছিলাম, তাই এই ধরাকে পরিবর্তন করতে চেয়েছি। আজ আমি বিজ্ঞ, তাই আমি নিজেকেই পরিবর্তন করছি''।

সমাজকে পরিবর্তন করতে চায় অনেকেই। কারণ, সমাজের দোষ খুঁজে পাওয়া খুব সহজ। কিন্তু, নিজের মাঝে যে ভুল-ত্রুটি আছে, সেগুলোর কথা সবাই মনে করে কি? কোনটি বেশি প্রয়োজন? নিজেকে পরিবর্তন করা নাকি সমাজকে? কোনটি আগে হওয়া উচিৎ?

আরেক ভাবে প্রশ্ন করলে বোধকরি চিন্তা করতে সুবিধা হবে। আচ্ছা, সমাজ পরিবর্তন হলে কি আমরা পরিবর্তন হয়ে যাব নাকি নিজেদের মাঝের ছোট-বড় পরিবর্তন সমাজকেও বদলাতে সাহায্য করবে? সমাজের সবচেয়ে ক্ষুদ্র একক হিসেবে আমাদের এই ব্যক্তি সত্ত্বার পরিবর্তন বৃহৎ সমাজে কতটুকু পরিবর্তন আনতে পারে?

আরেকটু গভীরে যাই। যদি নিজের মাঝে কোন কিছু পরিবর্তন করতেই হয়, সেটা কি হবে? তার কতটুকুইবা পরিবর্তন করতে হবে? তারচেয়েও বড় কথা, কি হবে সেই পরিবর্তনের মাপকাঠি? পুরোনো সবকিছুই পরিবর্তন করা জরুরী কি? তাহলে 'পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে' কথাটা এলো কিভাবে?

15 February 2016

মানহানি মামলার বাদীর বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করা হোক

জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক 'ডেইলি স্টার' এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা করে মোট ২০০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে সিলেটের আদালতে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ১/১১ এর সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ডিজিএফআইয়ের সরবরাহ করা তথ্য যাচাই-বাছাই না করে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে ডেইলি স্টার। সম্প্রতি টেলিভিশনের একটি টক শো’তে পত্রিকাটির সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম তা স্বীকার করেছেন। মিথ্যা ওই সংবাদের কারণে দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার মানহানি হওয়ায় মামলা দুটি করা হয়েছে।

মাহফুজ আনাম একটা বড় কালপ্রিট এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এই দেশে রাজনীতিবিদরা তো কত সময়ই অনেক মনগড়া মিথ্যা কথা বলে। কিন্তু নিজেরা ভুলেও নিজেদের ভুল স্বীকার করে না। তার কি দরকার ছিল ভুল স্বীকার করার? ঐসময়ে তিনি তো একাই যাচাই বাছাই ছাড়া সংবাদ পরিবেশন করেন নাই। অনেকেই করেছেন কিন্তু কেউ স্বীকার করে নাই। তাই কারও কোন সমস্যা নাই। ব্যাটা নৈতিকতা দেখাতে গিয়েছিলেন! এদেশে এরকম নৈতিকতা কে দেখাতে বলেছে তাকে? সুতরাং তার বিরুদ্ধে আরও মামলা দেওয়া হোক। মামলায় জর্জরিত করে ফেলা হোক। এমন উদাহরণ সৃষ্টি করা হোক যেন কেউ ভুলেও নৈতিকতার দায়ে নিজের ভুল স্বীকার না করে।

এদশে নিজের ভুল স্বীকারের প্রতিদান কেমন হবে সেটা মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার আগেই অনুধাবন করা কষ্টসাধ্য নয়। তবে একটি বিষয়ে অবাক হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর মানের মুল্য মাত্র ২০০ কোটি টাকা! কী অদ্ভুত! এত কম! যেখানে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকাকে সামান্য কিছু টাকা মনে হয় আমাদের অর্থমন্ত্রীর নিকট, সেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানহানির বিনিময় মুল্য মাত্র ২০০ কোটি টাকা! তাও একটি মধ্যম আয়ের দেশের প্রধানমন্ত্রীর মানের মুল্য! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মানের এই মুল্য নির্ধারন করল কে? তার বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করা হোক।

01 February 2016

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ কোথায় পাওয়া যায়?

ঢাকার হযরত শাহ জালাল বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণ উদ্ধার একটি নিয়মিত ঘটনা। এই বিমানবন্দর দিয়ে যতো না মানুষ আসে তার চেয়ে বেশি মনে হয় স্বর্ণই আসে। আর সেই স্বর্ণের কারণেই বার বার সংবাদপত্রে চলে আসে বিমানবন্দরটির নাম।

হযরত শাহ জালাল বিমানবন্দর দিয়ে এতো বেশি স্বর্ণ আসে যে এটাকে মনে হয় একটি স্বর্ণের খনি। হয়ত পরবর্তীতে সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় এমন প্রশ্নও আসতে পারে যে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ পাওয়া যায় কোথায়? উত্তরটি কি হবে জানেন? উত্তরঃ হযরত শাহ জালাল বিমান বন্দরে!

এত স্বর্ণ উদ্ধারের পর এই স্বর্ণ কোথায় যায় কি হয় এখবর আমরা না জানলেও এই বিমান বন্দর যে স্বর্ণ চোরাচালানের একটি বড় রুট তা বলতে হয়ত বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নাই। নিয়মিত স্বর্ণ ধরা পড়ার পরও যেহেতু স্বর্ণ পাচারকারীরা থেমে নেই সেহেতু ধরে নেওয়া যায় যে, পাচারকারীরা তাদের ব্যবসায়ে এই সামান্য পরিমাণ স্বর্ণ ধরা পড়াকে তোয়াক্কা করে না।